গ্রামমুখী ঢাকার কর্মজীবীরা। ভোট উৎসবে অংশগ্রহণ করতে বাড়ি যাচ্ছেন ঢাকার কর্মজীবীরা। এতে ফাঁকা রয়েছে ঢাকা। ভোট উৎসবের জন্য প্রস্তুত রয়েছে নগরবাসী।
বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় গাড়ির চলাচল একেবারেই কম। কেউ কেউ যাচ্ছেন বাড়িতে। আবার কেউ গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন।
ঢাকা কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইমন হাসান। তিনি প্রথমবারের মতো ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে বাড়ি যাচ্ছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বাড়ি যাচ্ছি। আবার কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকায় ফিরবো।
কাকে ভোট দেবেন– এমন প্রশ্নের জবাবে ইমন হাসান বলেন, ‘পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবো। সৎ ও ন্যায়পরায়ণতা সবকিছু বিবেচনা করেছি এবং আমি যাকে ভোট দেবো তিনি আমানত খেয়ানত করবেন না।’
তরুণ কর্মজীবী নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি রংপুর যাচ্ছি। আবার ফিরে আসবো এবং পুরোদমে কাজে মনোযোগ দেবো। অনেকদিন ধরে চিন্তা ভাবনা করে রেখেছি কাকে ভোট দেবো।’
তিনি বলেন, ‘এবারের ভোটটা ঈদ ঈদ লাগে এবং সত্যিকারের উৎসব উৎসব মনে হয়। সবাই মিলেমিশে ভোট দিতে যাবো। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা দেখতে চাই না। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর থাকবে, এটা চাই।’
এদিকে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস-প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরবর্তী দুই দিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় এখানে আবারও টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
এছাড়া পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।
তবে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং মোটরসাইকেল- নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকতার অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।
যানবাহনের পাশাপাশি এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ব্যক্তি চলাচলের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।